নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে সরকারি পে কমিশন গঠন, ছয় মাসে প্রতিবেদন দেবে কমিশন
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫,
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে একটি পে কমিশন গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অর্থসচিব এবং পল্লী কর্ম–সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। বর্তমানে দেশের সরকারি খাতের কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের আয়কে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এ বাস্তবতায় নতুনভাবে বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ বিষয়ে একটি কমিটি কাজ শুরু করলেও বিতর্ক এবং সমালোচনার মুখে সরকার তা স্থগিত করে। পরে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার ইঙ্গিত দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা এবং কর্মচারীদের জন্য ৩০ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। এছাড়া ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেতন-ভাতা মিলে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে এবার বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।
সরকার আশা করছে, নতুন পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সময়োপযোগী ও টেকসই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যা সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করে তুলবে।

0 Comments